1. admin@shaplahd.tv : AdYJkU :
  2. kmnhosain@shaplahd.tv : KmnHosain :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

সাম্প্রদায়িক ক্ষমতার দখলে বাবরি মসজিদ

শাপলা টিভি ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৫২২ বার দেখা হয়েছে

পনেরো শতাব্দীর এই বাবরি মসজিদ কে শহীদ করা মানে পুরো বিশ্ব তাওহিদীবাদের পাঁজরে আঘাত করছে মুদি সরকার। বুকে ব্যথা থাকবেই তবে বাবরি মসজিদ শহীদে মোটেও মর্মাহতের আশাহত নয় আমরা, আল্লাহ্ যা চান কল্যাণের জন্য করেন। আমরা সবুরমূলক জাতি মুসলিম। ইতিহাস আমাদের ঐতিহ্যের প্রেরণা যুগ-যুগ ধরে…

৮৬বছর পর যদি আয়া সুফিয়া ফিরে আসতে পারে বাবরি মসজিদ কেন নয়।  এই বাবরি মসজিদ কে সাম্প্রদায়িক ক্ষমতার জোর কাটিয়ে রাম মন্দির করার ফল বেশিদিন ভোগ করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। এই বাবরি মসজিদ আমাদের তা ফিরে পাবোই। সেই কালের মুসলিম রাজত্বের  মূগল সম্রাট  বাবরের আদেশে সেনাপতি মীর বাকী, বসতিহীন জায়গাতে ১৫২৮-তে নির্মাণ করে দীর্ঘ ১৯৯২ সাল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে বাবরি মসজিদ মুসলিমরা মসজিদ ব্যবহার করে আসছে।

১৯৯২সালের ৬ই ডিসেম্বর  “বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নামে সংগঠনের কর্মিরা রাম স্থাপনার সন্দেহমূলক জের ধরে বাবরি মসজিদের উপর হামলা চালায়, বেশিরভাগ মুসলিমসহ ২০০০লোক নিহত হয় দাঙ্গায়। সেই থেকে পুরো ভারত জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা শুরু। তথ্য সূত্রে যতটুকু জানা যায়,ভারতের উত্তর প্রদেশের, ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলের উপর অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ ছিল। বিশ্বাস করা হয়, এ বাবরি মসজিদ যে স্থানে অবস্থিত ছিল সেটাই সন্দেহেধরা হিন্দু ধর্মের অবতার রামের জন্মস্থান। এই বিষয়টি নিয়ে আঠারো শতক থেকেই হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্ক চলে আসছে, যা অযোধ্যা বিবাদ নামে পরিচিত।

এই বাবরি মসজিদ ধারনা করা হয়, মসজিদটি রামকোট (“রামের দুর্গ”) হিলের উপর অবস্থিত ছিল। (যদিও তার কোন প্রমাণ নেই) হিন্দুদের ব্যক্তে, মীর বাকী পূর্বে অবস্থিত রামমন্দির ধ্বংস করে তারপর মসজিদ নির্মাণ করেছে। তা মনগড়া সন্দেহ আদৌ রামমন্দির ছিল কিনা তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ভিন্নমত আছে। ২০০৩ সালে ভারতের ভূমি জরিপ বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা বাবরী মসজিদের নিচে একটি পুরাতন স্থাপনার অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেন।

১৯ শতকের শুরু থেকে এ বিতর্কের জের ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক কলহের ঘটনা ঘটে এবং পাল্টাপাল্টি আদালতে মামলা দায়ের চলতে থাকে। ১৯৪৯ সালে হিন্দু সক্রিয়তাবাদীরা হিন্দু মহাসভার সাথে জোট বেধে গোপনে রামের একটি বিগ্রহ মসজিদের অভ্যন্তরে রেখে দেয়। এরপরই সরকার দাঙ্গা ঠেকানোর অভিপ্রায়ে পুরো মসজিদকে সিলগালা করে দেয়। হিন্দু-মুসলিম উভয়ই সে স্থানে প্রবেশাধিকার পেতে আদালতে মামলা করে।

২০১০ সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে করে দেয়া হোক। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দুই ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ।এর বিরুদ্ধে সব পক্ষই উচ্চ আদালতে আপীল করে। ৯ নভেম্বর ২০১৯ সালে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়কে রদ করে ঘোষণা দেয় ২.৭৭ একরের পুরো জমিই এমন একটি ট্রাস্টকে দিতে হবে, যারা হিন্দু মন্দির নির্মাণ করবে। একই সাথে আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয় সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দিতে হবে মসজির নির্মাণের জন্য এবং সে জমি অযোধ্যায়ই হতে হবে। এই ছিলো সংকিপ্তাকারে দ্বন্দ্বের বিবরণ।

আজ মুদি সরকার হিন্দুত্ববাদের ক্ষমাতার জের ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন হামলা চালিয়ে বাবরি মসজিদ কে শহীদ করে রাম মন্দির করবে। এই অপমান বিশ্ব মুসলিম এর অপমান। বেশিদিন ভোগ করতে পারবে না তার সাক্ষী প্রতিটা বিজয়ী ইতিহাসের পাতা। সুতারং আমরা ঐ মহান সত্তার মদদের অপেক্ষায়, ভারতবর্ষ ন্যায় নিষ্ঠার শাসক ফের আসবেই, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গারাজ সংহতিবাদ মুদিরা নিপাত যাবেই। আবার আসবে ফিরে মুগল সম্রাট বাবর ও মীর বাকি, আবার গড়ে তুলবে বাঁশের কেল্লা তিতুমীর, আবার শুনবো মুহম্মদ বিন কাসিমের ঘোড়ার পায়ের ঝংকার। পুনঃ আসবে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর দীপ্তময় হুংকারের ডাক। অপেক্ষা তাদের উত্তরসূরি। আবাদ করবে ভারতবর্ষ পুনরায় ইনশাআল্লাহ।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো নিউজ এই ক্যাটাগরির

© All rights reserved © 2019
Design Customized By Our Team